১.

-আচ্ছা, আমাদের ক্যাম্পাসে লেখালেখির জন্য ওই রকম কোন প্লাটফর্ম নেই, না?

-জাস্ট লেখালেখির জন্য নেই কিন্তু আমাদের অরণীতে এই চর্চাটা কিছুটা আছে …

-তা আছে, কিন্তু অরণীতো নিয়মিত না, আর অরণীকে সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে দাবী করতে পারিনা, আমাদের বড় প্রোগ্রামের সুভেনির আর অরণীতে গোজামিল লেগে যায়। অরণীকে জাস্ট একটা সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে …

-যদি করতে পারিস তো ভা্লো; অনেকেই তো লেখে, তাদের জন্য একটা প্লাটফর্ম হয়, আর শিকড় এর জন্য একটা অর্জন হবে…

-দেখি দীপের সাথে কথা বলে দেখি।

২.

-অরণী নিয়ে লাস্ট এক্সেকিউটিভ মীটিং এ একটা ডিসিশন আসছে, এখন থেকে অরণী দুই মাস পর পর প্রতিটি বাংলা ঋতুতে একটি করে বের হবে…

-বলিস কি, দুই মাস পর পর?

– আর তৌহিদ ভাই এর সাথে কথা হয়েছে,  সে একটা চমৎকার আইডিয়া দিয়েছে…

-কি আইডিয়া?

-ছয় ঋতুর ছয় অরণীর ছয়টি আলাদা আলাদা নাম…

-নাম ঠিক করেছিস?

-প্রায়।

-প্রায় মানে?

-মানে হলো পাঁচটি অরণীর নাম মোটামুটি ফাইনাল। গ্রীষ্ম সংখ্যার নাম রদ্রপ্রয়াগ, বর্ষারটা মেঘমল্লার, হেমন্তে ময়ূখ, শীতে হেমকুট আর বসন্ত সংখ্যার নাম পুষ্পরাগ।

-অদ্ভূত সুন্দর নাম, কে দিল?

-তৌহিদ ভাই আর পুষ্পরাগ নাম তা পলাস ভাই এর দেয়া।

-হুম, কিন’ শরৎ সংখ্যার নামটা বললি না?

-ওইটা নিয়ে একটু কনফিউসন আছে। ওটা দেরি আছে, আপকামিং তো পুষ্পরাগ, ওইটা বের করি, পরে দেখা যাবে।

৩.

-অরণীর লেখা এসেছে কয়েকটা, টাইপ করতে হবে।

-আমাকে কয়েকটা দে…

-আচ্ছা, করে ফেলিস…কয়েকটা শাবিব, হিমেল আর আসিফ করছে

-আর শোন…

-কি?

-দেখতো, লেখাটা কেমন হয়েছে?

-তোর?

-হুম।

-এটাও টাইপ করে ফেলিস…

-না, আমি এটা করব না, তোরা কেউ কর…

-কেন? সমস্যা কি? আচ্ছা দে…

৪.

-প্রচ্ছদের কি অবস্থা, রাসেল ভাই?

-প্রচ্ছদ তো আঁকছি, কিন্তু স্ক্যান করাব নাকি ছবি তুলে কম্পিউটারে নিয়ে নিবো বুঝতেছি না…

-তোমার মোবাইলের ক্যামেরা তো ভাল, ছবি তুলে দেখ… ভাল হলে তো হলোই…

-হুম

৫.

-ভাই, এত ঝামেলা জানলে তো প্রেসে দিতাম।

-আরে ব্যাটা, প্রেসে দিলে কি এই মজাটা পাইতি?

-হুম, অনেক মজা, এক পেইজ সেটআপ নিয়ে চার ঘন্টা ধরে বসে আছি।

-মজা শেষ হয় নাই তো… প্রিন্ট কপি বের করে তার হিসেব মিলিয়ে পেজ গুলো বসাতে হবে, তারপর প্রচছদেও সাথে স্ট্যাপলার মারতে হবে…

-অ্যাড গুলা কি করব?

-গ্রে স্কেল এ দিয়ে দে… পিকচার প্রপারটিজে গিয়ে।তাইলে কালার প্রিন্ট না করলেও সমস্যা হবে না।

-তথাস্তু

৬.

-আসিফ আর মহিদুল প্রিন্ট বের করবে, তুই গুছায় দিবি…আমি স্ট্যাপ্লার মারব…ওকে?

-হুম, ওদের ‘ভাই-ভাই প্রিন্টিং’ প্রেস আর আমাদের ‘বাপ-বেটা বাঁধাই ঘর’।

-কথা কম বলে হাত চালাও…পেজ গুলা যাতে বাকা না হয়।

-আচ্ছা দীপ…কয় কপি বাইর করবি আজকে?

-করতে থাক…টারগেট ৫০…না হইলেও যেন ৩০ হয়…কালকের জিএম এর জন্য ৫০ টা হলে ভাল…মীটিং এর সময় পোলাপান আগ্রহ করে নিবে…

-৫০টা সেল করতে পারলে যা খরচ করছি উঠে যাবে মনে হয়।

-আরে ব্যাটা না উঠলে নাই…জিনিসটা কেমন হইল ওটাই বিষয়…

-সেটাই…

৭.

-আহ…জিনিসটা হাতে নিয়া বইসা থাকতেও ভাল লাগতেছে…

-হোমমেইড হিসাবে জোশ হইসে…প্রচ্ছদটা সবচেয়ে সুন্দর…

-ক্যান! ভিতরের লেখাগুলা সুন্দর না?

-তা তো অবশ্যই…

-কয়েকটা কপি নিয়া আমি আর হিমেল জাফর স্যার , জহির স্যার আর রনি ম্যাম এর কাছে যাব

-উনাদের জন্য নিশ্চয়ই স্পেশাল রেট…

-আবার জিগায়…হা হা হা

-প্রেসিডেন্ট এর জন্যও তো একটা স্পেশাল রেট থাকা দরকার…কি বলো মহিদুল ভাই?

-হ…তোমাগো প্রিন্ট করতে যে হেল্প করছি…ওইটার দামটাও দিও…

-হা হা হা…

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s